শীতের উদ্যান
আমি শীতের নিস্তব্ধ উদ্যানে বসে আছি
একাকী, আমার নি:শ্বাস ছাড়া আশেপাশে কেউ নেই
যেখানে আমার অস্তিত্ব লটকে আছে
নিঃসাড় মৃতপ্ৰায় কঙ্কালসার ম্যাপলের ডালে,
সাদা কাফনের মত তুষারপরা শাখাগুলো
আজ আমার কাছে খুব অচেনা,
আমি যেন আকাশবিচ্যুত এক স্খলিত নক্ষত্র।
হিমের নিশ্বাস হাড়গোড়ে কাঁপন জাগায়
সময়ের গোপন কূপে চাপাপড়া স্মৃতিগুলো জেগেওঠে
যেগুলো পাথরচাপা বুকে বিধ্বস্ত পড়ে আছে অযত্নে
আজ নীরবতায় গলে যাচ্ছে তার প্রতিটি ক্ষণ।
আমি অস্তিত্বের অন্তহীন নষ্টালজিয়ায় বিলীন হচ্ছি,
যেন মহাবিশ্ব আমাকে রেখে গেছে
এক অদৃশ্য চোখের মরচেপড়া জানালায় ।
উপরে ভেসে থাকা বাজপাখির মত মেঘমালা
মিলিত হয় প্রলয় হুংকারে;
ভেসেওঠে আমার ভাবনার গভীর কুয়োর জলকন্যা ,
একটি অজ্ঞাত স্পর্শ আমার চেতনাকে উদ্বেলিত করে।
নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের মধ্য দিয়ে হেঁটে যায় মৃতরা
তারপর শুয়ে পড়ে যার যার অন্তিম গুহায়।
যেখানে প্রশ্নেরা জন্মায় আগুনের মতো,
তারপর ধীরে ধীরে নিভে যায়
অদৃশ্য নিস্তল ছায়ায় ।
বিষাক্ত ধোঁয়ার মতো ভাসমান শূন্যতাকে
নিঃশ্বাসে গ্রহণ করি, তবুও
দু:সময়ের পরতে পরতে লেগে থাকা
নির্মল স্মৃতির উন্মোচন প্রতীক্ষা।
যখন শীত তার ধীর, অব্যক্ত গলনে
পৃথিবীকে ফেরত দেয় এক অদেখা আলোয়,
যার রঙ, আকার, এবং ছায়া
কেউ উপলব্ধি করতে পারেনা।
…………………….



Leave a comment