ফারুক আহমেদ রনি

এই যে ভোরের আগে এক ধরনের নীল নৈঃশব্দ্য
তার ভেতরেই লুকানো আছে উৎরনের বীজ।

ফাল্গুনের অন্তঃশিরায় সেদিন
জেগে ওঠেছিল এক লাল স্বরবর্ণ
সময়ের ত্বকে খোদাই করা একটি নিষিদ্ধ উচ্চারণ
আর অদৃশ্য শব্দ আর অক্ষরের প্রতিধ্বনি।
আজ সময় নিজেই নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে।

গুলির ধাতব বিকেলে দেখেছি
সিরাজের উলঙ্গ তলোয়ার
সেদিন সূর্যের কপালে এঁকে দিয়েছিল ছায়া,
বিষাদ ছিল… তবুও অপরাজিত বাংলা,
বারবার ডাক এসেছিল এক গোপন শপথের,
যেখানে আজো প্রতিটি স্বরবর্ণ
মেরুদণ্ডের মতো দাঁড়িয়ে আছে
বাংলা এবং বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষায়।

রক্তপাতকে আমি ইতিহাস বলি না;
সে ছিল এক অনিবার্য আলোকপ্রবাহ,
অন্ধকারের শরীরে স্বরচিহ্ন আঁকার প্রয়াস।
বাংলার রাস্তায় আজো বেনিয়াদের পদধ্বনি
পলাশী থেকে চব্বিশ…
তবুও মাতৃজঠরে অনুলিখিত হয়েছে মহাকাব্য;
আর মাটি ধীরে ধীরে অস্তিত্বের ভাষা হয়ে ওঠেছে।

একুশ তাই শোকের স্মারক নয়,
চেতনার অন্তর্গৃহে স্থাপিত
এক অগ্নিময় স্থাপনা,
যার দিকে তাকালে
আমরা দেখি,
নিজের মুখের ভেতর
অসংখ্য পূর্বপুরুষের দীপ্ত রক্তাক্ত উচ্চারণ।

বর্ণমালা ছুঁয়ে রক্ত ঝরেছে রাজপথে,
সেদিন বিষাক্ত করেছিল ভোরের নির্মলতা,
তবুও প্রতিটি রক্তবিন্দু একেকটি ব্যঞ্জন,
প্রতিটি নিঃশ্বাস অনন্তের প্রসারিত স্বরধ্বনি…।
মাতৃজঠরের অন্ধকারে প্রথম স্পন্দনের মতো,
যেখানে “মা” উচ্চারণ মানে
নিজের ভেতর পৃথিবীকে আবিষ্কার করা,
তাই আমার ভাষা মানে… আমার মা ।

Leave a Reply

Trending

Discover more from Faruk Ahmed Roni

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading