ফারুক আহমেদ রনি


বৈশাখ যখন শরবিদ্ধ আগুনমুখো হয়ে নামে,
আলো নয়, এ যেন এক বিন্যস্ত ক্যারিশমা;
মাটির অন্ধ শিরায় জমে থাকে ক্রোধ
দিগন্তের চামড়া কেটে টেনে আনে উত্তাপ,
বৈশাখ ফেটে পড়ে, হাতে তার বজ্রের কাঁচাহাড়।

গেলো বৈশাখ পুড়েছে নিঃশব্দে…
উল্লাসের বদলে ছিল নির্বাপিত নাভিশ্বাস,
রঙিন মুখোশের ভেতরে লুকানো ভিনদেশী আতঙ্ক;
স্বদেশী বনিআদমের বিদগ্ধ পোড়ামুখ,
সিনাইয়ের ছাই।

বিস্তৃত আলপনাজুড়ে ছিল উইপোকার উদ্বেগ,
মানুষের দীর্ঘশ্বাস চেপে রেখেছে গর্হিত সন্ত্রাস;
মুছে ফেলার আগে আঁকা শেষ সাক্ষ্য;
শাড়ির ভাঁজে উপেক্ষিত, স্থবির উৎসব।
পতাকায় লুকানো শোক, ক্ষোভ আর ভয়,
কৃষ্টির পালকে লাগিয়েছে নব্য সৃষ্টির বেনে-আগুন।

সংস্কৃতির গলা চেপে ধরেছে চামচিকারা,
উল্লাসে মেতে ওঠে; পাকবাংলা!
এ দেশ কখনো আমার ছিল না…
জয় পাক-মিরিকিনির জয়!
বাংলার নদী বয়ে যায় জলের নিচে,
লোহার মতো ভারী নীরবতা ডুবে থাকে
ধলেশ্বরীর বুকে।

এ বছর বৈশাখ দরজা ভাঙে…হেরেমে ইউনুস!
উত্তরণে- “উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে”
এবার বাঙালির বেদখল নিঃশ্বাসে
ঢুকে পড়ে স্নাইপার।
চোখের গভীরে বজ্রের আগুন ঠেকিয়ে
উচ্চস্বরে বলে উঠবে ;
“বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!”

Leave a Reply

Trending

Discover more from Faruk Ahmed Roni

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading