ফারুক আহমেদ রনি

বৈশাখী আসে মেঘের শরীর ভেঙে,
ধানের ছায়ায় রৌদ্র-উল্লাসে।
ঝর্ণার মতো নয়…
যেন ঝর্ণার অস্থিরতা ছুঁয়ে-থাকা একফালি হাসি,
যার শব্দে কেঁপে ওঠে ঘুমন্ত প্রাচীনবৃক্ষ,
তালপাতার ইতিহাস খসে পড়ে
কোনো পুরনো এক কবির পায়ের কাছে।
তার কেশে লেগে থাকে কাঁচা ধানের গন্ধ
যেন পৃথিবীর প্রথম ফসল,
আর চোখে আকাশের বিষুব রেখা,
যেখানে সময় চেয়ে থাকে আত্মসমর্পণের জন্য।

তার শাড়ির প্রান্তে লাল,
রক্তের মতো নয়, তবু রক্তের চেয়েও গভীর
প্রেমের পূর্বরাগ…
যেন এক নবজাত সূর্য ডুবতে ডুবতে রেখে গেছে
নিজের ছায়া কোনো এক নদীর ওপর।
সে হেঁটে চলে…
না, সে আসলে হেঁটে যায় না,
পথই ভাঁজ খোলে তার পায়ের নিচে,
পাথরেরা মুখ খুলে বলে; তুমি তো চেনা…
অগণন জন্মের অপেক্ষা।

তার হাসিতে মাটি কাঁপে না,
বরং মাটি ফোটে
শালিকের স্বরে, বাউলের গানে,
শিশিরের নিচে ঘুমিয়ে থাকা বীজে।
এক বাউল তাকে ডাকে নামে নয়,
স্মৃতিতে…
বৈশাখী, যার পায়ের নিচে খুলে পড়ে
ভুলে যাওয়া কোনো দরজার কপাট।

তার আগমনে
ক্যালেন্ডার থেমে থাকে কিছুক্ষণ,
তার শরীরে লেখা থাকে সময় নয়…
একটি ঋতুর আত্মজীবনী,
একটি নববর্ষের নরম শৈশব।
সে মাস নয়, বছরের গল্প নয়
সে নারী, আমার প্রেমিকা
সময়ের এক গভীর প্রতিচ্ছবি।

Leave a Reply

Trending

Discover more from Faruk Ahmed Roni

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading