ফারুক আহমেদ রনি
চেনা সব মানুষগুলো যেন অচেনা হয়ে যাচ্ছে…
যেমন ক্লান্ত দুপুরের ছায়া,
পথঘাট, পার্ক, গৃহস্থালি;
এমনকি মিথিলার হেরেমের সিটকিনি,
বাড়ির সামনের ম্যাগনোলিয়া গাছটিও।
মাঝে মাঝে মনে হয়
টেমসের স্বচ্ছ জলে রমণীয় মুখ,
আমার হতাশার অচেনা প্রতিচ্ছবি…
যেন শূন্যাবর্তে দাঁড়িয়ে থাকা এক অচিন বৃক্ষ।
রঙ বদলে, অচেনা লেবাসে রাহুগ্রস্ত দুপুর;
মেঘের তোড়জোড়…
সংকটাপন্ন বিকেলের রক্তিম আকাশ।
বিবিধ চাহিদার মাঝে ঘাসফুলগুলোও
যেন আজ জরায়ুতে মুখ লুকোয়।
যক্ষের ধনের মতো…
চক্ষুহীন সুউচ্চ ক্যানারি ওয়ার্ফ
মন্দা সময়ের সাক্ষি, এক অবিনব স্থাপনা।
কোথাও চেনা মুখ নেই…
না হোমো সেপিয়েন্স,
না প্রকৃতি, না সেই সকল স্মৃতিভ্রষ্টজন;
যাদের বাড়ন্ত শরীরের ছায়াও খাটো হয়ে আসছে।
আজ স্রোতস্বিনী নদীতে পড়েছে ভাটা…
আরও সুবেহ সাদেকের আজানের ধ্বনি,
ক্লান্ত দুপুরে গীর্জার ঘণ্টা,
সন্ধ্যার কীর্তন…
সবই যেন কেমন কন্দিত,
বেসুরে মিলিয়ে যাচ্ছে ধূসর বাতাসে।
তেমনি করে গ্রিনিচ মান সময়…
মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ইতিহাস হয়ে;
যেন সেখানে, পাহাড়ের চূড়ায় থমকে আছে সময়।



Leave a comment