মিথিলা, এক অনশ্বর প্রতিধ্বনি

নিসর্গহীন, বৃক্ষশূন্য বার্টলেট পার্কের আখোলা বেঞ্চ,
নিথর বসে আছি একাকী,
বসন্তের স্নিগ্ধ নিশ্বাস প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায়;
ঠিক তখনই মিথিলা নীরবে হেঁটে যায়
আমার স্মৃতির নিকুঞ্জপথ বেয়ে।

অষ্টান্নের প্রান্তে এসে উন্মোচন হতে থাকে
বহুযুগ- ঢাকা পড়েথাকা ধূলিময় কোন এক
পুরনো গ্রন্থ; বিস্মৃত এক পুঁথির অধ্যায়;
জীর্ণপাতার ফিকে শরীরে
মিশে আছে যেন মিথিলার পদধ্বনি ।
এখানে কাচের মিনার বিদীর্ণ করে নীলাকাশ,
এখানে কোলাহল ভেঙে নানারঙের
নারীমূর্তিরা হেঁটে যায়…
অথচ তাদের কেউই মিথিলা নয়।

লাজুকসূর্য মেঘের আবরণ ভেদ করে
স্বল্পস্নিগ্ধ উত্তাপ ছড়িয়ে আছে বাতাসে,
সে উষ্ণতা মিথিলাকে উপেক্ষা করে যায় ।
অষ্টান্ন বছরে এসে মনে হয়;
ফিরে যাই সেই ক্ষণস্থায়ী সময়ের জিহ্বার ভেতরে
যেখানে মিথিলার নূপুরের ছন্দপ্রবাহে
দোলে উঠত পথহীন ফেরারি নদী।

একফালি স্মৃতি চঞ্চল জোয়ারের মতো
বয়ে নিয়ে যায় আমাকে,
যেখানে গোধূলির অঙ্কুরে স্থির হয়ে আছে
মিথিলার শরীরের গন্ধ,
আর নিঃশ্বাসে অনুরণিত যৌবনের নির্বাক শরীর।
শুষ্ক ডালের ফাঁকে ঝরেপড়ে ম্লান সূর্য,
আমি অপেক্ষায় থাকি হয়তো তারই আড়ালে
মিথিলা আবার হেঁটে আসবে
স্মৃতির সুপ্ত অরণ্যে।

আজ তার প্রতিধ্বনি কেবলই ক্ষীণ…
এই অচেনা মানুষের গভীরঅরণ্যে
মিইয়ে যাওয়া বেলাভূমির ঢেউের মতো।
জোয়ারে-ভাটায় ভাঙা চাঁদের আলো
বুকে হামাগুড়ি দেয় স্মৃতিরা,
আমাকে নিয়ে যায় অস্তরাগের ক্লান্ত সময়ে,
সেখানে সন্ধ্যার কুহুকে আজও মিশে থাকে
মিথিলার অনামা সুবাস,
যেখানে নিস্তব্ধতার গভীরে
শুনি তার পায়ের চিরন্তন প্রতিধ্বনি
যা থামে না কখনও।

Leave a Reply

Trending

Discover more from Faruk Ahmed Roni

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading