আজ আমি এখানে শুয়ে আছি, একা,
আমাকে জড়ানো লিউকাস, স্কোপারিয়া, লজ্জাবতী,
অথবা প্যালমেট সবগুলো আগাছা দ্রুত আমার থেকে সরে যাচ্ছে
শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে মৃত্তিকার ক্ষুধা।
বিভ্রমের একান্নবর্তী দিগন্ত পার করেছি…
আজ আমি এখানে একা!
আমার কিছুই চাইনা, সামান্য একটু নিঃশ্বাস
বেঁচে থাকার জন্য কৃত্রিম একটু অম্লজান
আপাতত এক মিনিটের জীবন নিয়ে হলেও অমর হতে চাই।
মাত্র এক মিনিটের উদারতা আমাকে চাই
হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস বিচ্ছিন্ন করছে মহাজাগতিক এক উল্কাপিণ্ড,
পারছিনা, পারছিনা
অন্তহীন পরমায়ু নয়, অবিনশ্বর আয়ুষ্মান নয়
শোণিতে স্বাদহীন গন্ধহীন যাহোক শুধু একটু কৃত্রিম বায়ু
আমাকে বাচতে হবে।
কোথাও আলো নেই কেন,
এত নিষ্কাম বিষণ্ণতা কেন চারিদিকে?
বসন্তের শরীরজুড়ে তাপময় প্রজ্বলিত সূর্য,
শুক্লপক্ষের সফেদ জোৎস্নাবৃত শহর
তবুও কোথাও আলো নেই কেন?
প্রকৃতির মায়াময় সৃজন সন্ধ্যা
মধ্যাহ্নের বিমোহন কোলাহল
নাগরিক উত্থানে বিনির্মাণ সুরম্য নগর
এবং নিদ্রা-প্রাণ মির্জা গালিব।
রাজপথ, পান্থশালা, ইন্ডিয়া গেট, গুরুদুয়ারা, লোটাস টেম্পল,
জামে মসজিদ, লালকেল্লা, যন্তর মন্তর,কুতুবমিনার
সর্বত্র ছড়িয়ে আছে আলো ছায়াহীন পিনড্রপ নীরবতা
মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ভেদ করছে কোভিড,
সুনীল স্বপ্নের আঙিনাজুড়ে অনিশ্চিত দ্রোহকাল
যমুনার জলে নশ্বরতার উত্তাল ঢেউ।
ভোরের শুভ্রপেখম নিয়ে জেগেওঠা দিল্লী আজ ক্লান্ত,
ত্রিকাল জুড়ে বিষণ্ণতা গ্রাস করছে
অক্সিজেন সিলিন্ডার হাতে আকাশমুখো কুতুবউদ্দিন
করোনার বিপক্ষে বিধ্বস্ত তলোয়ারবিহীন কালের সাক্ষী!
গাছের একটা পাতাও নড়ছেন
ভূমণ্ডল প্রত্যক্ষ করছে নিঃশ্বাসের ওজন
ভারী হয়ে আসছে নিঃশ্বাস
ডাক্তার
নার্স
কেউ আছেন?
অক্সিজেন শূন্য সিলিন্ডার মুখ থুবড়ে পড়ে আছে
এক মিনিট, তারপর নিশ্চুপ স্তব্ধতা!
একজন ডাক্তার মানে এখন একটি লাশ!
এত মেধাবতী নীলগ্রহ আজ উদাস কেন?
এমন অম্লান মাটির শোভায় জমে আছে ক্লেদ আর বিভ্রম
অশরীরর নিগ্রহের অনুশাসনে ভীত,বিমূঢ় নিরাশ্রয়ে যাপিত সময়!
কোথায় রাখবো এত লাশ?
কে খুঁড়বে কবর?
কে জ্বালাবে শ্মশানে আগুন?
সারিবদ্ধ মানুষ,
জাত, ধর্ম, বর্ণহীন ক্লান্তিতে নুয়ে আছে উদারতা
বিস্মিত ছায়ায় পেছনে বিদগ্ধ উচ্চারণ
এক মিনিটের অম্লজান..
চূর্ণিত ক্রান্তি পার করে নিষ্পেষণের যাযাবর সংশয়
কোথাও কোন প্রশান্তির ছোঁয়া নেই,
শুধুই উত্তোলিত হাত পরম ভক্তিতে,
বিধ্বস্ত প্রান্তরজুড়ে আজ বিধাতাই একমাত্র আশ্রয়।

Leave a comment

Trending