(উদগ্রীব অপেক্ষা, তারপর পতাকার পালক ওড়ে,
ওড়ে বাতাসে বিশ্ববাঙালির আকাঙ্খার স্বপ্ন)

তোমার হাতের তর্জনী বাংলাদেশের প্রাণ স্পর্শ করেছিল
তোমার স্বপ্নের সুসভ্য বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়েছিল
জননীর সবুজাভ শাড়ির জমিনে
এবং সেই তোমার বুকে অকস্মাৎ আগ্নেয়গিরি,
নাভিপদ্মে জ্বলে দাউদাউ পরিত্যক্ত আগুণ।
ভাঙা চাঁদের শেষ-রজনীতে গাঢ়রাত্রির চিড়ধরে
যখন সুখানন্দে আলোকিত পৃথিবী, ঠিক তখনই
দপকরে নিভে যায় কৃত্রিম আলোগুলো
কেঁপে ওঠে মহাকাশ, বিষবোধে অস্থির প্রকৃতি
মেহেদীর রঙের সাথে
কেমন মিশে গেলো টকটকে লাল রক্ত।
বায়ান্ন থেকে পঁচাত্তরে এসে থমকে গেছে
ঘড়ির কাটা!
আমরা নিরুপায় অবলুপ্তির অন্ধকার দেখি
আলো নেই, ঘড়ির শব্দ নেই
কেবলই অভেদ্য পাঁচিল রোধ করে আছে
অজানা গন্তব্যের পথ।
কি অদ্ভুত! অভাগা বাঙালি তোমার প্রাণের দামে
বিকৃত করেছে স্বদেশ,
বিনষ্ট করেছে পুরুষালী অহংকার
নিলামে তুলেছে জাতির বিবেক!
তোমার প্রাণের দামে বাঙালি কিনেছে
মাকড়শা-বৃত্ত
আমরা আজীবন সেই বৃত্তের ভেতরেই
রয়ে গেলাম!

Leave a Reply

Trending

Discover more from Faruk Ahmed Roni

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading