আমার ভেতরের গ্রন্থাগার বিধ্বস্ত, ধুলোয় ঢেকে গেছে
মৃত পাখির পালকের মতো ঝরেপড়ে গ্লানিমাখা শব্দেরা
প্রজ্ঞার দীপশিখা কবে যে নিভে গেছে, কিছুই মনে নেই
আমি শুধু তার কালো ধোঁয়া ফুসফুসে টেনে নিচ্ছি।

মাটির অন্ধকারে ঢেকেথাকা আমার বীভৎস শরীর
চক্ষুহীন অমাবস্যার ব্রুথেল হেরেমে বিক্রিত মেধা
আজ মৃৎপাত্রের মত সেকেলে, মূল্যহীন বাজারে
আয়ু ভেঙে ভেঙে ত্রিশ বসন্তের রুহের প্রত্যাখ্যান।

অচেনা পাহাড়িয়া নদীর গতরে অদেখা বিস্ময় নিয়ে
হেঁটে চলেছে বেনোজল, ভাসে তৃষ্ণার্ত প্রাচীন নগর
আকাশের ভাঁজে খুলে যাচ্ছে এক অচেনা সিঁড়ি
শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে আছে একটি আখোলা কপাট।

আমি এগিয়ে যাচ্ছি, পেছনে কুয়াশায় ঢাকাশহর
বৈয়ামে রোদেপোড়া পীতবর্ণ ক্ষয়িষ্ণু প্রতিশ্রুতি
আমার ছায়াটিও সঙ্গে নেই, এক অনন্তের গন্তব্য
যেখানে নৈরাজ্যে ফেরার কোনো মানচিত্র নেই।

যাদের জন্য আমি বহন করেছি এত দৃপ্তআলো
তাদের কাছে আবার রেখে যাচ্ছি কেবলই ছাই
যা ছুঁলেই গলে যায় অচেনা হিমবাহের জলে
মাটির গোপন অঙ্কুর, নিস্তব্ধতার অপরূপ শিরা।

One response to “অদৃশ্য প্রস্থান”

  1. Mesmerising imagery drawn. Very touching, poignant piece of work.

    Like

Leave a comment

Trending