- কি ভাবছো, কথা বলছোনা কেন? মনে হচ্ছে যান্ত্রিক মায়ায় প্রলুব্ধ ভাবনার ক্ষরণ হচ্ছে!
হারিয়ে গেছো চিত্তনির্বাসনে! - বাহ! তুমি তো বেশ বলেছো। চিত্তনির্বাসন!
উত্তাল নদীর গভীর তলদেশে ডুব দিয়ে যেন নিংড়ে নিয়ে এনেছো
চকচকে মুক্তোদানা। এক্কেবারে কাব্যকলায় ষোলআনা। - আমি তোমার সাথে কথায় পারলাম কই? পারবোওনা।
কাব্যকলার এমন বুনন তোমাকেই মানায়, তোমাকে প্রণামি গুরু। - হাঁ হাঁ হাঁ…। আমিই তোমার কাছে হার মেনেছি।
তুমি আমার ক্ষ্যাপা হৃদয়ের একমাত্র অহংকার ।
শিমুলতুলোর মত নিরন্তর ভাসছো আমার ভাবনার আয়তনজুড়ে, হরহামেশা, নিত্যপ্রহর। - বাহ! একমুঠো রোদ্দুর হাতের মুঠোয় নিয়ে তোমার এত অহংকার।
কাঞ্চনজঙার বিলাস মোহনায় কুয়াশার প্রণয়-ভাব আর দেখলে কই, এতেই যদি তথৈবচ! - আমিতো তোমার ভালবাসার কাছে বরাবরই তথৈবচ!
- হ্যাঁই, শোন তুমি এখন কোথায়?
- আমি বারান্দায় হেলান দিয়ে পূর্ণিমার আকাশ দেখছি।
- তাইতো বুঝি গুরুর কবি মানস হঠাৎ জেগে উঠেছে অবেলায়!
- ইচ্ছে করছে এই দুধেলা চাঁদটি তোমার খোঁপায় গেঁথে দেই,
আর কপালে পরিয়ে দেই আলোক্লান্ত একটি উজ্জ্বল তাঁরা।
কি অপরূপ বিমুগ্ধ প্রহর, প্রত্যাশার আলো ছড়িয়ে
তোমার পানে নান্দনিক উচ্ছ্বাসে ধাবিত। - বিশ্বায়নের দুর্দান্ত পরিব্রাজক তুমি…কিন্তু তোমাকে ঘিরেইতো
আমার জগত বিশাল-বিস্তৃত আর নান্দনিক। উচ্ছ্বাসতো আমারই গুরুর ভাবনা,
যে ভাবনায় সূর্যের উদর ভেঙ্গে প্রকৃতি আলোকিত হয়।
ভোরের বার্তা পৌঁছে দেয় আমার অন্ধকার বাড়িতে । দৃশ্যমান হয় নগরী। - বাহ! আমি কুপোকাঘাত। হার মানি তোমার কাছে দেবী!
- দেবী! এতটা উপহাস কেন হে বৎস্য!
- তোমাকে নিয়ে ভাবছি, তোমার মোহন মায়ায় আটকে থাকা সারাবেলা
এই আমার ভেতর তোলপাড় আয়োজন.. ।
এমন তোমার লাজুক-কুসুম চোখের পরশ,
অন্ধকারে নষ্ট ক্রিয়ার জ্বালা-পোড়ন। - আমাকে নাহি দ্যাখ বৎস্য… নিতান্তই নষ্টপ্রলয় ভাবনা তোমার।
দ্যাখ চেয়ে- উত্তাল নদী, ব্যস্ত পারাপার…। মানুষ ছুটছে, মানুষ ছুটছে,
কোথাও কান্তি নেই। স্বপ্নের অদৃশ্য ঠিকানায় দৌড়ে পালাচ্ছে মানুষ।
তোমার কেন রহস্যময়ী ভাবনা নিয়ে এত দু:খবিলাস!
হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো। শুনতে পাচ্ছো? - নির্ঘাত আমি নির্বাসনে যাবোই এবার..।
- বাহ, এত দেরি কেন? তুমি কবে হিসেবি হবে, বলো!
- কি আশ্চর্য! তোমার জন্যইতো বেহিসেবি আটপৗরে সংসার,
আবাদ করেছি কামনার বাসভুম। নিমগ্ন এই চোখের মায়ায়
হংসমিথুন ভাসমান সাগর পারাপার। - বেলাস্রোতের নষ্ট প্রলয়, উপচে পড়া শব্দক্ষরণ আমার কি আর সাধে!
তুমি কবি, তাই বলে- তোমার কাছে ভস্ম¯‘স্তুপের ভিন্ন রকম চিত্তরহণ,
আমার কাছে দ্ধ›দ্ব-বিপাক অষ্টপ্রহর কান্তিহীনে সর্বনাশা আত্মহনন।
ভাঙছো সময়, ভাঙার নেশায় ভাঙছো কেবল নিত্য খেয়াল অবলীলায়। - বিশ্বাস অবাঞ্ছিত হলে জীর্ণ হবে খেয়াল,
শঙ্কা ঘনীভূত হলে ক্রোধে বিবর্জিত হবে অহংকার! - না, তোমার সাথে কথায় পারা যাবেনা.. ।
তোমার এমন কাব্যকথার মিহিন বুনন, আমিতো বুঝিনা অনেক তার মরম।
ই”চ্ছে ছিল, জন্মান্তর তোমার জন্য বিষকাঁটা হবো,
বিভাজন হবো উত্তরণের অঙ্গিকারে..
কিন্তু আমাতেই বিষ-কাটা দু-ই হজম এবং মরণ।
তুমিতো সিরাতপার এক পলকে। - তুমি আমার উদাস চলা আকাশ পথে মেঘ বালিকা,
তোমার আবার সিরাতপারের ব্যাকুলতা, কেমন মানায়!
আমার বক্ষভেদে হরহামেশা তুমি থাকবে স্বস্বর্গবাসে। - স্বস্বর্গবাসের ভাবনা বিলাস শুধুইতো তোমায় মানায়, তুমিতো স্বস্বপ্নোযাপন নীরব কবি,
খামখেয়ালী মন্ত্রমায়ায়। এবার আমার কান্ত দাও,
ভোর হতে আর দেরি নেই, শরীরখানা ভেস্তে গেলো অনিয়মে। - তাইতো’ হৃদপিÐের ভেতরে কাতরানো দেয়ালের প্রাণহীন যন্ত্রটি তালে তালে
সারারাত উচ্ছ্বাসের নিমন্ত্রণ জানিয়ে যায়,
নির্ঘুম শরীর ভাঙছে নিরন্তর কান্তির ভারে। হ্যালো.. হ্যালো।
শোন, উদ্ভ্রান্ত আমাকে রেখে তুমি কোথায় পালাচ্ছো? হ্যালো.. হ্যালো… - শুনছি, বলো। কতটা উদাসীন হতে পারো,
কতটা উদাসীন হলে তোমার নি:শ্বাস মুখরিত হতে পার
তাইতো দেখছি কবি। - এইতো ভোর হবে, নরকযাপনের প্রত্যয় নিয়ে আমাকে আবার হারাতে হবে জনারণ্যে।
বিনম্র উচ্চারণে সংস্কার হোক মানবিক উত্তরণের,
বিনম্র প্রতিজ্ঞা সংশয় প্রত্যাহারে সম্মিলন হোক মানবতার।
তোমার জন্য একটি নান্দনিক সুপ্রভাত প্রত্যাশায়।
রজনীর শেষ প্রান্তে এসে তোমাকে জানাই শুভরাত্রি। - তোমাকেও কবি। নিরন্তর ভাবনার ফানুস উড়িয়ে আমারই প্রেমে বিনির্মাণ হোক জাগতিক অস্তিত্ব।
- তুমি সলাজ প্রত্যাবর্তন করো আমার সোনালী বসন্তের আঙিনায়। শুভরাত্রি।





Leave a comment