“যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। (আন নিসা: ৯৩)”

দূর্বাঘাসে কোয়াশার জলজ কণায়
যখন চিকচিক করছে প্রান্তর
সূর্যের পুরোভাগে যখন লাঙল কাঁধে কৃষকেরা,
যখন পথের ক্লান্তিভুলে টিফিন হাতে
মিথিলা দ্রুত পায়ে বাসে চড়ে;
ঠিক তখনই,
ভস্মীভূত হয় বাস, মিথিলার শরীর।
ভস্মীভূত হয় সাদা মেঘের পালক
ভস্মীভূত হয় “আল্লাহর পাক বানী”!

আজ এই ভোরে জাহান্নামের ঠিকাদারি নিয়েছে
কিছু জারজ;
যারা আমার মায়ের আচল ভূলুণ্ঠিত করে,
যারা রক্তাক্ত করে তার শরীর।
দাউ দাউ পুড়ছে শিশিরসিক্ত নরোম গতর,
খাবলে নিয়েছে মিথিলার বাদামী আবরণ।

সন্তানের কপালে শেষ চুম্বনে
ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মেরপথ
বেগবান হয়ে ওঠে যার পা,
হঠাৎ স্তব্ধ যায় ভোরের কোলাহল!
অনন্ত মহাকাশের দিকে তাক করা
তার দুচোখ এখনো মমতায় লীন,
ফ্যালফ্যাল প্রশ্নবাণে নামে শেষ অশ্রুবিন্দু
‘আমার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে কি?’
মিথিলা জানতে পারেনি তার ভবিষ্যৎ,
প্রিয়তম সন্তানের বেবাক কষ্টের আহাজারি,
বিধ্বস্ত নাগরিক জীবনে মাতৃত্ববোধের আশ্রয়!

দিগন্ত থেকে দিগন্তের অন্ধকারে ঝলসে ওঠে বারুদ
এমন আগুনঝরা উৎসবে জ্বলে নিরন্তর দ্বিধার পাহাড়।
পাখীরাও জানে নীড়ে তার সুখ
শুধু জানেনা মাংসশাষী বেজন্মা হায়েনারা
যারা পুড়ায় মিথিলাকে,
যারা পুড়ায় আমার মাকে।

Leave a comment

Trending