আমি নষ্ট হতে চাইনি, আমাকে নষ্ট করা হয়েছে
বিষাদের রক্তকরবী আমার হাতে তুলে দিয়ে
প্রতিহত করা হয়েছে আমার বাসযোগ্য আয়োজন।
আমি নষ্ট হতে চাইনি. আমাকে নষ্ট করা হয়েছে
আমার নশ্বর দেহখানি হারিয়ে গেছে,
নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া চরের মত
তলিয়ে গেছে জোয়ারে।
আমি এখন বেহাগ-উদাসী সংকীর্ণ হৃদয়
শীতের ম্যাপোলের মত, পত্র-পল্লবহীন
জেগে আছি।
আমার বিমর্ষ হৃদয়ে ক্লান্তির স্পর্শ দিয়ে গেছে
দুদণ্ড ঐন্দ্রজাল দহন!
আমি নষ্ট হতে চাইনি, সময়ের সাথে
ঘোড়ার রেসে প্রতিদ্বন্দ্বী করা হয়েছে আমাকে ।
পিষ্ট হয়েছি কেবল, বাজি জিততে পারিনি।
বিদ্রোহের কোমল শ্লোগান যদি হয়
জীবন দেবো ভালবাসার বিনিময়ে
আমি তাহলে ভালবাসার নামে বিপ্লবী হতে চেয়েছি
আমি নষ্ট হতে চাইনি।
এই অর্থহীন জীবন-সংগ্রাম, বেঁচে থাকার প্রহসনে
বিশ্বাস ভেঙ্গে ভেঙ্গে স্ফুরিত আয়োজনে নিসর্গ যাপন
কারোই কাম্য নয়। বক্ষের শিল্প নিয়ে বাজারে চর্চা হবে,
এমন তো কথা ছিলনা। কথা ছিলনা বাতাসে জ্বলে ওঠা
রোদ্র-ক্ষরণ! নাভিমূল বেচেঁ থাকার অঙ্গীকার নিয়ে
অস্তিত্বে বিশ্বায়নের স্বপ্ন ধারন।
আমি তার কিছুই চাইনি, মানব জন্মের নামে সোনার হরিণ
অথবা মাংসল রমনী ভোগ। না, কিছুই না।
আমি নষ্ট হতে চাইনি,
মানুষ বিকল্প স্বপ্নের আবাদ আমার কাম্য নয়
আমি কালের শোনিতে নির্মিত সাগ্নিক যুবক
আমাকে স্তব্ধ পাহাড় আর দূর্বাঘাস ফিরিয়ে দিয়ে দাও,
আমি নষ্ট হতে চাইনি, আমাকে ভালবাসার বিশাল আয়তন
নির্মাণ করে দাও।
জেগে ওঠো মৃত্তিকা অনাবৃষ্টিতে, আমার বুকের জমিন মেপে
উত্তরণের সাক্ষ্য হও, বিশ্বাসী আলিঙ্গনে যুথবদ্ধ হও।
আমি নষ্টের বিস্তীর্ণ নগরী আচ্ছাদিত করবো নিষ্পেষনে
আমাকে আর নষ্ট কোরনা, আমি নষ্ট হতে চাইনি।
না বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব-বিপাক নিয়ে নক্ষত্রের উৎসব দেখতে চাইনি
জোৎস্নার ঢেউ তুলে চন্দ্রমল্লিকার উপহাস ও চাইনি
আমাকে বিশ্বাস দাও, সতীর্থ কল্যাণে জেগে উঠুক
স্বপ্নের অলৌকিক জগৎ।
গভীর অন্ধকারে ধাবিত মৃত্যুগামী সূর্য আবার জেগে উঠুক
প্রত্যুষের দোয়ার খোলে আরেকটি আলোকিত স্বপ্নের প্রত্যাশায়।





Leave a comment